এই সপ্তাহের নিউজলেটার
The jar was gray and bare
এই নিউজলেটার বাংলা ভাষার সবচাইতে নলেজ কম্প্যাক্ট, এবং ইনসাইটফুল নিউজলেটার। বিশেষত এই সাপ্তাহিক সংখ্যায় লক্ষ্য থাকে অল্প কথায়, যতটুকু জরুরী ঠিক ততোটুকুতে কিউরেটেড আইডিয়া, ইনসাইট শেয়ার।
তথ্যে আধিক্যের সময়ে ভালো কিউরেশনই গুরুত্বপূর্ণ।
ডেড ইন্টারনেট থিওরি
এই সপ্তাহের কন্সপিরেসি আইডিয়া বট নিয়ে। বট বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অনলাইনে, রাজনীতিতে, মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ টপিক। ডেড ইন্টারনেট থিওরি নামে এক কন্সপিরেসি তত্ত্ব আছে, যা বলে ২০১৬ সালের পর থেকে ইন্টারনেট মূলত বট, অটোমেটেড কন্টেন্ট এবং এলগরিদমিক ম্যানিপুলেশন। বিভিন্ন ধরণের বট বানানো হয়েছে, তাদের ইন্টারেকশনের মাধ্যমে সার্চ রেজাল্ট, এলগরিদমকে ম্যানিপুলেশন করা হচ্ছে, যাতে মানুষদের ইনফ্লুয়েন্স করা যায়। এর সমর্থকরা, এও দাবী করেন, শুধুমাত্র কনজিউমারদের ইনফ্লুয়েন্স করতে নয়, বরং সরকার, সরকারী এজেন্সিও জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করতে বট ব্যবহার করছে। আরো দাবী, মানুষের স্বাভাবিক ইন্টারেকশন বট দিয়ে কমিয়ে ফেলা তাদের নিয়ন্ত্রণের উপায়।
পোস্ট আর্নিংস এনাউন্সমেন্ট ড্রিফট
আজ মেটা, এমাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগলের আর্নিং ছিল স্টক মার্কেট ক্লোজ হবার পরে। একসাথে মিলিয়ে প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন মার্কেট ক্যাপের আর্নিং রেজাল্ট প্রায় একইসময়ে। ভালো বা খারাপ আর্নিং হলে স্টক প্রাইসে এর প্রতিফলন দেখা যায়। অপ্রত্যাশিত ভালো হলে, ফিউচারের পরিকল্পণা ভালো হলে দাম বাড়তে থাকে, অন্যদিকে খারাপ হলে, দাম কমতে থাকে। প্রত্যাশিত ভালো বা খারাপ হলে ঐদিনই বড় আপ বা ডাউন হয় প্রাইসে, কিন্তু এটাই শেষ হয়। পোস্ট আর্নিংস এনাউন্সমেন্ট ড্রিফট থিওরি বলে, অপ্রত্যাশিত পজিটিভ বা নেগেটিভ রেজাল্টের প্রভাব স্টক প্রাইসে বেশ লম্বা সময় ধরে প্রতিফলিত হয়। অর্থাৎ, রেজাল্ট ভালো হইলে বাড়তে থাকে, খারাপ হইলে কমতে থাকে।
স্ট্যান্ডার্ড ড্রিফট ৬০ দিন। ৬০ ট্রেডিং দিন ধরে এই প্রভাব থাকে।
কোন ক্ষেত্রে এক্সটেন্ডেড ড্রিফট হয়, ৬ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত প্রভাব থাকে।
এই থিওরির মূল ভিত্তি হলো, আর্নিং নিউজ নিয়ে ট্রেডাররা আন্ডার রিএক্ট করে। এবং আস্তে আস্তে যখন আরো তথ্য আসতে থাকে তখন তারা রিএকশন করতে থাকে।
এই সপ্তাহের প্রোফাইল
বিনোদিনী দাসী , বাংলা মঞ্চের বিখ্যাত অভিনেত্রী ছিলেন।
বাইফেজিক স্লিপ
মানব ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়ে মানুষ রাতে টানা লম্বা ঘুম দিত না। সন্ধ্যায় ঘুমাত, মাঝখানে জাগতো, আবার ঘুমাইত। এর বাংলা নাম দেয়া যায় দ্বি পর্যায়িক ঘুম।
আবার হাসিমুখ
হাসিমুখ ছবি, ছবি তোলার সময় স্মাইল প্লিজ বলা এখন কমন। কিন্তু পুরাতন পট্রেইটগুলা দেখলে দেখা যায়, মানুষেরা গম্ভীর মুখে আছেন, হাসছেন না। এই বিষয়ে রিসার্চ বলে, ওয়েস্টার্ন আর্ট হিস্টরির বেশিরভাগ সময়ে ছবিতে হাসা ভালগার হিশেবে ধরা হইত, যা কোন উচ্চ রুচির, উচ্চ বংশীয় লোক করতে পারে না। নিম্ন জাতের, মাতাল বা গর্দভের চিহ্ন ছিল পট্রেইটে হাসা। মোনালিসার রহস্যময় হালকা হাসিমুখ রহস্য করতে নয়, বরং ওইসময়ে এটাই ছিল সর্বোচ্চ লিমিট দ্য ভিঞ্চির জন্য, পুরা হাসিমুখ হইলে ছবিটা ভালগার হিশাবে দেখা হইত।
এন্ড ইজ নাই
শেষ, দুনিয়ার ধ্বংস খুব কাছাকাছি, এই বিশ্বাস বা আশঙ্কাটারে বলা হয় এন্ড ইজ নাই। আমেরিকা এবং কানাডায় এই এপোকিলিপ্টিক থিংকিং এখন মেইন্সট্রিম, প্রতি তিন জনের একজন আমেরিকান এন্ড ইজ নাইতে বিশ্বাস করে, এমনই জানাচ্ছে জার্নাল অব পার্সোনালিটি এন্ড সোশাল সাইকোলজির এক স্টাডি।
এই সপ্তাহের ১৩ এফ
সিচুয়েশনাল এওয়ারনেস হেজ ফান্ড। এর ফাউন্ডার Leopold Aschenbrenner, জর্মন এই এআই ওপেন এ আই এর সুপারইন্টিলিজেন্স টিমে কাজ করতো। এপ্রিল ২০২৪ সালে "তথ্য লিকের" অভিযোগে তাকে ফায়ার করা হয়, এবং এর কয়েকমাসের মধ্যে ওই টিম ডিজলভ হয়ে যায়। একবার এক হ্যাকার ওপেন এইয়ের ইন্টার্নাল মেসেজিং সিস্টেম হ্যাক করে কিছু তথ্য চুরি করে। কোম্পানি এই তথ্য গোপন রাখে, কিন্তু লিওপল্ড একটি মেমো লিখে ডিরেক্টরদের পাঠায়। তার পয়েন্ট ছিল কোম্পানির সিক্যুরিটি দূর্বল এবং চায়না বা অন্যান্য দেশ এর সুবিধা নিয়ে হ্যাক করতে পারবে। এই মেমোর কারণে বোর্ড এবং লিডারশীপের ভেতরে দ্বন্দ্বের তৈরি হয়, এবং লিওপল্ডকে ওয়ার্নিং দেয়া হয়। লিওপল্ড দাবী করে এই ঘটনার সূত্র ধরেই তাকে ফায়ার করা হয়।
সে সিচুয়েশনাল এওয়ারনেস নামে এক ১৬৫ পেইজের পেপার প্রকাশ করে ইন্টারনেটে, আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টিলিজেন্সের আবির্ভাব, এবং এই সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স বিষয়ক সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রবন্ধগুলির মধ্যে একটি এই লেখা, যেটি গতবছর শেয়ার করছিলাম, আবার এখানে শেয়ার করা যায়।
এই লিওপল্ড পরে সিচুয়েশনাল এওয়ারনেস নামে এক হেজফান্ড দেয়। এই হেজফান্ডের ফাইলিং লক্ষ করলে দেখা যাবে, সে পপুলার এআই স্টক, যেমন এনভিডিয়া, গুগল, এমাজন, মেটা ইত্যাদি কিনে নি। কিনেছে এনার্জি, এআই ইনফাস্ট্রাকচার, ডেটা সেন্টার, কম্পুটেশন রিলেটেড স্টক।
এই সপ্তাহের সাহিত্য
ডেথ অব ইভান ইলিচ, লিও তলস্তয়। বিশ্ব সাহিত্যের শ্রেষ্ট উপন্যাসের একটি হিশেবে বিবেচিত হয়। বিস্তারিত পরের কোন এক সংখ্যায় লেখব।
এই সপ্তাহের ফিল্ম
Ankhon Dekhi - Through My Own Eyes - নিজের চোখে দেখি, রজত কাপুরের লেখা এবং পরিচালনায় একটি ফিল্ম, যা ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়। ফিল্মে প্রধান চরিত্র মনে করে যা নিজে অনুভব করা যায় না, নিজের চোখে দেখি নাই, তা বিশ্বাস করার কোন যুক্তি নাই। তার এই "নিজের চোখে দেখার" জার্নি নিয়েই এই ফিল্ম। ইন্ডিয়াতে যে ক'টি ফিল্ম দার্শনিক বিষয় নিয়ে ডিল করেছে, এটি সেই তালিকায় উপরের দিকে থাকবে। ইউটিউব লিংক।
এই সপ্তাহের কবি ফিলিপ লার্কিন
ফিলিপ লার্কিন একজন ইংলিশ কবি। ১৯৮৫ সালে তিনি মারা যান। তার একটি বিখ্যাত কবিতা দিস বি দ্য ভার্স, এটি তার ডায়রেক্ট ভাষা, ডার্ক হিউমার, এবং কমন এক্সপেরিয়েন্সরে উপস্থাপনের জন্য পরিচিত বলা যায়। এখানে তিনি ফ্যামিলি ট্রমা নিয়ে বলেছেন, যেখানে বাপ মা সন্তানরে দিছে ট্রমা, বাপ মারে দিছে তাদের বাপ মা, ফলে এইটার এবসার্ড ডার্কনেসে লারকিন বিরক্ত, ও বলতেছেন, এই ট্র্যাপে না পড়তে।
লার্কিনের কবিতা, তার স্টাইল এবং বোধ সম্পর্কে বুঝতে এই লেকচারটি ভালো PHILIP LARKIN “why I write poetry”—20th century English literature, contexts, & writing style
এই ভিডিওর শেষের দিকে ডক্টর অক্টাভিয়া কক্স বলছিলেন, ঔপন্যাসিক ও কবি থমাস হার্ডির কথা, হার্ডি মনে করতেন অনুভব হইল ভালো লেখার এসেন্স। ফিলিপ লারকিন এর দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। লারকিন লেখেন, হার্ডি অনুভব করতে শেখাইছেন, লেখার চাইতে। এবং এও শিখাইছেন, তুমি নিজে যা ফিল করো ওইটাতে বিশ্বাস করতে। এটা খুব ইন্টারেস্টিং কথা। তার দিস বি দ্য ভার্স কবিতাটির দিকে দেখলেও এর সত্যতা স্পষ্ট, তিনি কনফিডেন্টলি অনুভবরেই ব্যক্ত করে গেছেন।
এখন কেউ জিজ্ঞেস করতে পারেন, লেখক ফিল না করে লেখবে কীভাবে, ফিল না করেও সে লেখা শুরু করলে লেখতে লেখতেও তো ফিল করতে পারে।
একেক ধরণের লেখকের প্রসেস একেকরকম হয়। থমাস হার্ডির প্রসেস ছিল আগে ফিল করা, পরে লেখা। আগে লেখার চিন্তা, পরে ফিল করা তার তরিকা ছিল না। বড় কবি জীবনানন্দ দাশের উপরেও থমাস হার্ডির প্রভাব ছিল। উপরে উল্লেখ করা Ankhon Dekhi ফিল্মের থিমও অনুভব।
এই সপ্তাহের কবিতা
এই সপ্তাহের কবি ফিলিপ লার্কিন হইলেও, কবিতা কবি ওয়ালেস স্টিভেন্সের দার্শনিক কবিতা এনেকডট অব দি জার। এটা সহজ, সুন্দর এবং অসাধারণ। কেউ বা কবি একটা ছোট জার টেনেসির এক পাহাড়ে রেখে আসছেন, এবং ওই জারের কারণে পুরো পরিবেশ বদলে যাচ্ছে, বা সমস্তটার এক ভিন্নরকম অর্থ তৈরি হচ্ছে।
এখানে জার হতে পারে মানুষ, এবং বন্য পাহাড় প্রকৃতি। বা, জার মানুষের শিল্প, সংস্কৃতি, অন্যদিকে পাহাড়ি বন্যতা প্রকৃতি।
শিল্প প্রকৃতিরে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, মানুষ যেইভাবে দেখে, যেইভাবে শিল্প তৈরি করে এইভাবেই প্রকৃতিরে সংজ্ঞায়িত করতে চায়, সৌন্দর্য দিতে চায়, ভাষা দিতে চায়, শৃঙ্খলা দিতে চায়। কিন্তু, ওয়ালেস শেষের দিকে বলেন, জার প্রকৃতির মত কিছুই দিতে পারে না, না ঝোপঝাড় না কোন পাখি। সে শাসন করে কিন্তু জীবনদায়িনী নয়।
এলোমেলো বা অবাধ্য বন্যতাকে শাসন করে, এবং কবির ভাষ্যে জারটা “It took dominion every where." ঠিক যেমন উপনিবেশ স্থাপনকারীরা স্থানীয়দের অসভ্য বন্য বিশৃঙ্খল হিশেবে দেখিয়ে, এবং বিশ্বাস করে, তাদের সভ্য করার নামে, তাদের শৃঙ্খলা দেবার নামে তাদের উপর আধিপত্য কায়েম করতো। যেহেতু এটা টেনেসির পাহাড়ের কবিতা, চেরোকি ন্যাটিভদের জমি দখল করার ইতিহাসের সাথে না মিলিয়ে পড়া যায় না।
উপসংহার এবং গুড নিউজ
গত সপ্তাহে এটেনশন পুনরুদ্ধার, টেনশন অডিট করার কথা বলেছিলাম, এবং এই সংখ্যায় রিমাইন্ডার দেয়ার কথা ছিল। এই সেই রিমাইন্ডার, দেখেন কীভাবে, কতোটুকু এটেনশন পুনরুদ্ধার করতে পারলেন।
এই সপ্তাহে আমার তৃতীয় ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে, এটা গুড নিউজ। আগামী কোন সংখ্যায় শেয়ার করব।


