অথেনটিক লাইফের যাত্রা
কীভাবে জীবন যাপন করিতে হয়
জীবনের যে কসমিক কোন অর্থ নাই বলা যায় এইটা প্রকাশ্য হয়ে যায় ১৬৩২-৩৩ সালে, যখন গ্যালিলিও কেপার্নিকাসের তত্ত্ব সমর্থন করেন ও প্রমাণ দেখান যে, দুনিয়া সৃষ্টির কেন্দ্রে নয়। সূর্যের চারপাশে ঘুরতে থাকা এক গ্রহ মাত্র। মানবজাতির যে বিশাল এক ইগো তৈরি হইছিল, তাদের কেন্দ্র করেই সকল কিছু, এটা ওইসময়েই ভেঙ্গে পড়ে।
কসমিক মিনিং না থাকাটা একটা বিশাল সমস্যা ও শূন্যতারে নিয়া আসে। কিন্তু এর মানে এই না যে, ধর্ম কেন্দ্রিক যে ন্যারেটিভগুলা চালু ছিল তা বিনাশ হয়ে গেছে। হয় নাই, বরং বলা যায়, ইভলব হইছে। অনেকের মনে এই প্রশ্ন জাগতে পারে, এটা কীভাবে সম্ভব, যেখানে তাদের মূল ভিত্তিই মিথ্যা প্রমাণিত হইল, যেখানে এর পরে আমরা রেনেসাঁস ও বিজ্ঞানের আধুনিক যুগ পাইলাম, এর পরেও কীভাবে ধর্ম কেন্দ্রিক ন্যারেটিভগুলা দুনিয়াতে রইয়া গেল? কেউ আরো দুই পা আগাইয়া গিয়া বলবেন, তাহলে নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই, কেউ এইগুলা বাঁচাইয়া রাখছেন।
এই ধর্মকেন্দ্রিক ন্যারেটিভগুলা ধ্বংস হয় নাই কারণ, মূলত এই ন্যারেটিভসমূহ কোন বৈজ্ঞানিক কারণে তৈরিই হয় নাই। জীবন ও সৃষ্টজগতের কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়া কোন ধর্মেরই কাজ না। বরং মানুষ কিভাবে দুনিয়াতে জীবন যাপন করবে এই উপদেশ দেয়াই তাদের মূল কাজ। আর এই ন্যারেটিভগুলার মূল ভিত্তি সাইকোলজিক্যাল। যেমন, ডেনায়াল অব ডেথে আর্নস্ট বেকার বলছিলেন, এইগুলা হচ্ছে মানুষের মৃত্যুরে ভুলে থাকার চেষ্টা। প্রতিটা ধর্মীয় ন্যারেটিভই মানুষের অমরত্ব প্রজেক্ট। ধর্ম বলে মানুষের মৃত্যু নাই। এই দুনিয়ার মৃত্যুর পরে আছে অনন্ত জীবন। অর্থাৎ, ধর্ম মানুষের বিনাশে বিশ্বাস করে না, বরং মানুষের এই লাইফরে একটা যাত্রার অংশ হিশাবে দেখে। কোন ধর্ম বলে পরকালে বিচার হবে, এরপরে মানুষ যাবে অনন্ত জীবনে তার পাপ পুণ্যের হিশাবে। কোন কোন ধর্ম বলে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তার পাপ শেষ না হয়, নির্বাণ প্রাপ্তি না ঘটে ততদিন পর্যন্ত বার বার তার জন্ম হতেই থাকবে। এরপরে একসময় তার মুক্তি ঘটলে সে মিশে যাবে অনন্ত সম্ভাবনায়।
আর্নস্ট বেকারের ব্যাখ্যা ছিল, মইরাই যে সে শেষ হইয়া যাবে, তার কিছুই থাকবে না, কোন অস্তিত্ব থাকবে না, বারে বারে আর ফিরে আসা হবে না, কোন পরকাল থাকবে না, কোন শাস্তি বা পুরস্কার থাকবে না - এই জিনিশটা মেনে নেয়া মানুষের জন্য কষ্টকর। ফলে, তার ধর্মের ন্যারেটিভই লাগে। এইজন্যই, যতই গ্যালিলিও বুঝান সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘুরে, যতই কসমিক মিনিং আঘাতপ্রাপ্ত হোক - মানুষ তার বিশ্বাস হারায় না। কারণ, বিশ্বাস এখানে ফ্যাক্ট নির্ভর না, এটা অন্য পারপাজ সার্ভ করে।
কীভাবে জীবন যাপন করিব - এই প্রশ্নে মানুষের মধ্যে জিজ্ঞাসা আসে, অর্থ কী। কারণ সকলেই অর্থপূর্ণ জীবন যাপন করতে চায়। এবং যেহেতু আধুনিক বিজ্ঞানের উতকর্ষতার বিজয়রথ অতিক্রম করে আমরা প্রযুক্তিগত স্বর্ণযুগের দ্বারপ্রান্তে, তাই ধর্মীয় ন্যারেটিভও অর্থ দেবার ক্ষেত্রে বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য শক্তিশালী না, যেমন দেড় দুই হাজার বছর আগে ছিল। দার্শনিকেরাও নানাভাবে অর্থের সমস্যার অর্থপূর্ণ এক সমাধান বের করার চেষ্টা করে গেছেন, কিন্তু যেহেতু তারা দার্শনিক তাই একক কোন সিদ্ধান্তে যাইতে আর পারেন নাই।
আমি এক্ষণে গেইমের মাধ্যমে একটা ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করব মানবজীবনরে।
আমার মনে হয়, মানুষের জীবনে বিভিন্ন ধরণের গেইম থাকে। যেমন, শিক্ষার গেইম, কেরিয়ারের গেইম, টাকা পয়সা কামানোর গেইম, রোমান্টিক জীবনের গেইম, সন্তান ও ফ্যামিলির গেইম, সামাজিক জীবনের গেইম, খ্যাতি যশের গেইম, আধ্যাত্মিক গেইম - ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক ধরণের গেইমের এক সেট আছে মানুষের সামনে।
এইসব গেইমের সবক'টা সবাই খেলতে চাইবে এমন না। কোন গেইম আমি খেলব এবং কোনটা খেলব না - এই পছন্দ করতে পারাই ব্যক্তির স্বাধীনতা। যখন কোন ব্যক্তি কোন গেইম খেলতে চায় না, কিন্তু সে খেলতে বাধ্য হইতেছে - এমন হইলে ওইটাই পরাধীনতা। ধরা যাক, একজন পাঁচটা গেইম খেলতেছেন প্রধানত, এর মধ্যে দুইটা তার খেলতে ইচ্ছা নাই কিন্তু বাধ্য হইতেছেন, তাহলে এই দুই জায়গায় তিনি স্বাধীনতারে কম্প্রোমাইজ করতেছেন।
আমরা একটা কমন কথা দেখি সমাজে অনেক সময়, কোন কোন লোকের সমালোচনা করতে গিয়া মানুষ বলে, উনি টাকা কামাইছেন অনেক, কিন্তু সন্তান মানুষ করতে পারেন নাই। এই কথার পেছনে থাকে একটা ধরে নেয়া যে, ওই ব্যক্তি সন্তান-ফ্যামিলির গেইম খেলছিলেন ও তাতে ব্যর্থ হইছেন। মানুষ এটা ধরে নেয় কারণ বেশিরভাগ মানুষই সন্তান-ফ্যামিলির গেইম খেলে থাকে।
কিন্তু, ধরা যাক, ওই ব্যক্তি ব্যতিক্রম ছিলেন, তিনি সন্তান-ফ্যামিলির গেইম আসলে খেলেনই নাই। সামাজিক কারণে বাধ্য হইয়া ফ্যামিলি করছিলেন। এমন হইলে, তিনি ওই গেইমে হারছেন তা বলা যায় না, কারণ ওইটা তো তিনি খেলেনই নাই।
উদাহরণ হিশেবে বলা, অন্য যে কোন গেইমের ক্ষেত্রেও একই কথা।
সমাজে সাধারণ মানুষেরা তাদের রিসেন্টিমেন্ট জনিত হতাশা দূরীকরণে যেসব ডিফেন্স মেকানিজম আবিষ্কার করেছে, এর একটা হইল, সফল মানুষদের কোন একটা গেইম ধরে ওইখানে তার চাইতে আগাইয়া থাকা। যেমন, নায়ক নায়িকারা কত ভালো লাইফ কাটাইতেছে তারা দেখে ও মনে করে, তারা বুঝে এই গেইমে তারা ওদের সাথে পারবে না, তাই ভাবে ধর্মীয় গেইমে তারা আগাইয়া আছে। তাদের হিশাবে নায়ক নায়িকারা সব দোজখে যাবে, তারা এইদিক দিয়া বেটার, কারণ তারা বেহেশতে যাবে।
জীবনের অর্থরে বা জীবনরে এই আলাদা আলাদা গেইম হিশাবে দেখার এক সুবিধা হইল, বৃহত্তর একক কোন অর্থের দরকার হয় না। আরেক সুবিধা, আরেকজনের লগে তুলনা করে যে মনোযাতনা ভোগ করেন লোকেরা এর অযৌক্তিকতা বুঝা যায়। এছাড়াও, আমার ধারণা, এতে ব্যক্তির লাইফের অভারল হ্যাপিনেস বাড়বে, যদি সে ক্লিয়ারলি বুঝতে পারে কোন কোন গেইম সে খেলবে, কোন কোন গেইম সে খেলবে না।
সে যে গেইমগুলা খেলতেছে, ওইখানে কিভাবে খেললো, সেটাই তার কাছে ম্যাটার করবে। যেইটা খেলে নাই ওইটাতে সমাজের বিচারে ব্যর্থ হইলেও তার কাছে কিছু ম্যাটার করবে না, কারণ আজকে কত কত ফ্লাইট ছাড়ছে, বাস ছাড়ছে, ট্রেন ছাড়ছে, কিন্তু আপনে যদি এগুলার পিছে না ছুইটা থাকেন তাহলে আপনার কিছু যায় আসে নাই।
অনেক বছর আগে পল গ্রাহামের লেখায় একটা বইয়ের কথা পাই, বা এক আইডিয়ার কথা জানতে পারি। ব্রনি ওয়ার নামের একজন নার্স মরণাপন্ন রোগীদের নিয়া কাজ করতেন। তিনি তাদের নানা কিছু জিগাইতেন, ও তাদের রেগরেটস বা কী নিয়া অনুতাপ হয় এগুলা জানতে চাইতেন। তিনি পরে বই লেইখা জানান দেন, বেশিরভাগ মানুষের পাঁচটা রেগরেট থাকে তিনি পাইছেন। এগুলা হইল,
১। আমি যদি অন্যের প্রত্যাশামত নিজের জীবন চালিত না কইরা, নিজের মত কইরা বাঁচতে পারতাম। আমার যদি সেই সাহসটা থাকত।
২। আমি যদি এত কাজ, এত পরিশ্রম না করতাম।
৩। নিজের ইচ্ছা, অনুভূতি প্রকাশের মত সাহস যদি আমার থাকত।
৪। আমি যদি আমার বন্ধুদের লগে থাকতে পারতাম আরো বেশী।
৫। আমি যদি আরো সুখী বা খুশী থাকতে পারতাম।
যখন এটা পড়ি, আমার কাছে খুবই পাওয়ার ফুল আইডিয়া মনে হইছিল, এখনো মনে হয়। আসলেই তো, কিছুই তো থাকে না পরে, তাহলে মানুষের উচিৎ নিজের মত করে বাঁচা, এই ছিল আমার এখান থেকে নেয়া ইনসাইট।
মূলত, এখানে ব্রনি ওয়ার এটাই বুঝাইছেন মূল ইনসাইট হিশাবে। কিন্তু পরে আমার মনে হইছে, এই মৃত্যু পথযাত্রীদের অনুতাপগুলা, যেগুলা আমার কাছে স্ট্রাইকিং লাগছিল কারণ এগুলা মৃত্যুপথযাত্রীদের অনুতাপ তাই- এইসব আসলে অর্থহীন আবেগী কথাবার্তা।
যারা বলতেছেন আমি এত কাজ পরিশ্রম না করে যদি ফ্যামিলিরে বেশী সময় দিতাম, যারা বলছেন টাকার পিছে না ছুটে যদি বন্ধুগো লগে বেশী থাকতে পারতাম - ইত্যাদি ইত্যাদি, এরা সবাই লাইফের ওই পর্যায়ে একটা ক্রসরোডে গেছিলেন। যেমন ক্রসরোডে গেছিলেন বিখ্যাত কবি রবার্ট ফ্রস্ট। দ্য রোড নট টেইকেন তার দার্শনিক কবিতা। সেখানে কবি বলতেছিলেন, দুইদিকে গেছিল দুইটা পথ। তিনি একটা নিছিলেন, এইজন্য তার দুঃখ ছিল, ওইটাই তার জীবন বদলে দিছিল। তিনি অন্য পথ নিলে তার জীবন অন্যরকম হইত।
হলুদ বনে দুটি পথ হয়েছিল আলাদা,
দুঃখ ছিল- দুটোতেই যেতে পারিনি আমি।
এক ভ্রমণকারী হয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালাম,
এক পথ যতদূর দেখা যায় তাকালাম,
যেখানে তা ঝোপের আড়ালে বাঁক নিয়েছে।
তারপর নিলাম অন্যটিকে-সমান সুন্দর,
হয়তো তার দাবি ছিল কিছুটা বেশি,
কারণ তাতে ঘাস গজিয়েছিল, কম ছিল চলার চিহ্ন;
তবু চলতে চলতে বোঝা গেল
দুটো পথই প্রায় সমান ব্যবহৃত।
সকালের আলোয় দুটোই সমান শুয়ে ছিল,
পাতার উপর কোনো পদচিহ্ন ছিল না কালো।
প্রথমটিকে রেখে দিলাম অন্য দিনের জন্য!
কিন্তু জানতাম- পথ থেকে পথ এগোয়,
ফিরে আসব কিনা-সন্দেহ ছিল মনে।
কখনো একদিন দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলব:
বনে দুটি পথ হয়েছিল আলাদা—
আমি নিলাম সেই পথ, যেখানে কম হয়েছে চলা,
আর সেটাই বদলে দিয়েছে আমার সমস্ত জীবন।
ওই প্রতিটা মৃত্যুপথযাত্রী আসলে এই কবিতার মর্মবানীরে ছুঁইয়া গেছেন তাদের অনুতাপে। তাদের কাছে তখন অপশন ছিল কোনটা নিবেন, কোন পথ তিনি গ্রহণ করবেন। শেক্সপিয়রের জুলিয়াস সিজার নাটকে, ক্যাসিয়াস ব্রুটাসকে বলছিলেন, মানুষ কখনো কখনো নিজের ভাগ্যের কর্তা হয়। এই দুইদিকে যাওয়া দুই পথের মধ্যে, তিনি কোনটারে নিবেন কোনটারে নিবেন না, নাকি দুইটারেই নিবেন - এই জায়গায় তার একটা কর্তা ভূমিকা ছিল। আবার জীবন পাইলে, একই পরিস্থিতিতে হয়ত তারা একই পথই নিতেন।
প্রত্যেক পছন্দেরই সুবিধা অসুবিধা আছে। এটা খুবই অল্পবুদ্ধি চিন্তা যে, আপনি কোন একটা অপশন পছন্দ করবেন কিন্তু খারাপ দিক নিবেন না, ভালো দিক নিবেন। বা, এখানে যে অপরচুনিটি কস্ট আছে, একটা নেবার মাধ্যমে আরেকটা যে বাদ দিতে হইল, এইটা মেনে নিতে হবে। এখানে রেগরেটের যৌক্তিক কোন কারণই নাই।
মহান দার্শনিক সোরেন কীয়ের্কেগার্ড মানুষের সাইকোলজির এই সমস্যাটা ধরতে পারছিলেন, তিনি এর নাম দিছিলেন নন্দন তাত্ত্বিক সমস্যা। তার কথা ছিল, মানুষ পছন্দ করতে চায় না, খোলা থাকতে চায়। কারণ পছন্দের সাথে যে অনুতাপ আসে, দায় আসে, এটা সে নিতে ভয় পায়। এই সমস্যারে ব্যাখ্যা করতে গিয়া তিনি ফিলোসফির অন্যতম সেরা একটি অংশ লেইখা ফেলেন, আইদার এন্ড ওরের প্রথম খণ্ডে, ‘এ' নামক চরিত্রটির মাধ্যমে,
“Marry, and you will regret it; don't marry, you will also regret it; marry or don't marry, you will regret it either way. Laugh at the world's foolishness, you will regret it; weep over it, you will regret that too; laugh at the world's foolishness or weep over it, you will regret both. Believe a woman, you will regret it; believe her not, you will also regret it... Hang yourself, you will regret it; do not hang yourself, and you will also regret that; hang yourself or don't hang yourself, you'll regret it either way; whether you hang yourself or do not hang yourself, you will regret both. This, gentlemen, is the sum and substance of all philosophy."
"বিয়ে করো, পস্তাবে; বিয়ে করো না, তাতেও পস্তাবে; বিয়ে করো বা না করো - দুটোতেই পস্তাবে। পৃথিবীর মূর্খতা নিয়ে হাসো, পস্তাবে; কাঁদো, তাতেও পস্তাবে; হাসো বা কাঁদো - দুটোতেই পস্তাবে। নারীকে বিশ্বাস করো, পস্তাবে; বিশ্বাস করো না, তাতেও পস্তাবে... গলায় দড়ি দাও, পস্তাবে; দড়ি দিও না, তাতেও পস্তাবে; দড়ি দাও বা না দাও - দুটোতেই পস্তাবে। এটাই, ভদ্রমহোদয়েরা, সকল দর্শন তত্ত্বের মূল কথা।"
তিনি বুঝাইতেছিলেন, প্রতিটা সিদ্ধান্তের সাথে অনুতাপ আসবেই, এবং সেইটা ধরে শুধু বিশ্লেষণ করতে থাকলে কোন সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারবে না। সিদ্ধান্ত নিতে হইলে একটা লিপ অব ফেইথের দরকার আছে।
এখন, কোন ব্যক্তি যদি সচেতনে তার গেইম পছন্দ করে, কোনটা সে খেলতেছে কোনটা খেলতেছে না - এর অর্থ হইল সে বুইঝাই করতেছে এখানে অপরচুনিটি কস্ট কী আছে, এবং এই সিদ্ধান্তের সাথে আসা সম্ভাব্য অনুতাপ সম্পর্কে। ফলে তার অনুতাপ কম হবে, বা হবে না।
প্রাসঙ্গিক বিধায় এখানে জেফ বেজোসের রেগ্রেট মিনিমাইজেশন ফ্রেমওয়ার্ক আইডিয়াটির কথা স্মরণ করা যায়। বেজোস যখন এমাজন কোম্পানি শুরু করতে যান তখন তার বসকে বলেছিলেন যে তিনি অনলাইনে বই বিক্রির একটি কোম্পানি শুরু করতে চান। এমাজন শুরু হয় ১৯৯৪ সালে, অর্থাৎ ১৯৯৪ সালের আগের কাহিনী। তখন ইন্টারনেট প্রাথমিক অবস্থায় ছিল, বলা যায় পাবলিক ইন্টারনেট শুরুই হয় ১৯৯৩ সালে।
তার বস ন্যু ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে তারে নিয়া দুই ঘন্টা হাঁটার পর বলেছিলেন, "আইডিয়াটা ভালো, কিন্তু যার ভালো চাকরি নেই তার জন্য এটা বেশি উপযুক্ত।"
বস তারে ৪৮ ঘন্টা ভাবতে বললেন মূল সিদ্ধান্ত নেবার আগে। বেজোস তখন নিজেকে ৮০ বছর বয়সে কল্পনা করে ভাবলেন কোনটা নিয়ে তার বেশি অনুশোচনা হবে। তিনি বুঝলেন চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে অনুশোচনা হবে না, কিন্তু চেষ্টাই না করলে সারাজীবন তাড়া করবে। ইন্টারনেটের এই বিশাল সুযোগ যেটা তার মনে হচ্ছে এতে, অংশ না নিলে আফসোস থেকে যাবে। এই দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা তাকে স্ট্যাবল জব থেকে মুক্ত রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল।
আমরা এখানে, এই লেখার শেষকালে, ফ্রেড্রিক নীতশের ইটার্নাল রেকারেন্স থট এক্সপেরিমেন্টের কথা দিয়া একটা জিনিশ বুঝতে পারি। নীতশে তার গে সাইন্স বইতে লেখছিলেন,
What if some day or night a demon were to steal after you into your loneliest loneliness, and say to you, "This life as you now live it and have lived it, you will have to live once more and innumerable times more; and there will be nothing new in it, but every pain and every joy and every thought and sigh and everything unutterably small or great in your life will have to return to you, all in the same succession and sequence" ... Would you not throw yourself down and gnash your teeth and curse the demon who spoke thus? Or have you once experienced a tremendous moment when you would have answered him: "You are a god and never have I heard anything more divine.
সহজ অনুবাদে,
‘যদি কোনো দিন বা রাতে কোনো দানব তোমার নিঃসঙ্গতম একাকিত্বে লুকিয়ে এসে তোমায় বলে, 'এই জীবন যেমন তুমি এখন যাপন করছ এবং যাপন করেছ, তোমাকে আরেকবার এবং অসংখ্যবার আরো বাঁচতে হবে; আর এতে নতুন কিছু থাকবে না, বরং তোমার জীবনের প্রতিটি যন্ত্রণা আর প্রতিটি আনন্দ, প্রতিটি চিন্তা আর দীর্ঘশ্বাস, এবং অকথ্যরকম ছোট বা মহান সব কিছুই তোমার কাছে ফিরে আসবে - সব কিছু একই ক্রমে, একই পরম্পরায়'... তুমি কি নিজেকে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দাঁতে দাঁত ঘষে সেই দানবকে অভিশাপ দেবে না যে এমন কথা বলেছে?
নাকি তোমার জীবনে এমন চমৎকার অসাধারণ মুহুর্ত এসেছে যে, তুমি তাকে উত্তর দিতে: 'তুমি দেবতা, আর আমি এর চেয়ে ডিভাইন কিছু কখনো শুনিনি।'
একজন ব্যক্তি যে যে গেইম খেলতেছেন তার জীবনে, তিনি নিজেরে জিজ্ঞেস করতে পারেন, আমার যদি একইরকম বার বার জীবন হইত, যেখানে সকল কিছু একইভাবে একইরকম ভাবে ঘটতো, তাহলে কি আমি এই গেইমগুলাই চয়েজ করতাম। যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে, এই ব্যক্তি তার লাইফ নিয়া হ্যাপি। আর উত্তর না হইলে, হয়ত কিছু কিছু জায়গায় তার গেইম বদলাতে হবে, জীবন বার বার একইভাবে পুনরাবৃত্তি হইতে থাকলে, যেসব গেইম তিনি খেলতে চাইতেন, ওইগুলা খেলতে চাওয়াই তার জন্য সুখকর হবে। এবং এখানে মনে রাখতে ওই আগের কথাই, যে গেইমই খেলেন না কেন, হয়ত অন্য কোন গেইম ছাড়তে হবে, অর্থাৎ এখানে একটা অপরচুনিটি কস্ট আছে, এবং রবার্ট ফ্রস্টের মত অনুতাপের সম্ভাবনাও আছে। গেইম চয়েজ করা মানে এগুলা সহকারেই চয়েজ করা।
যখন কেউ সচেতনভাবে গেইম চয়েজ করতেছেন, কোন গেইম তিনি খেলতেছেন তা বুঝতে পারতেছেন, এবং সেইগুলার ভালো মন্দ দুই দিক সহকারেই গ্রহণ করছেন, অপরচুনিটি কস্টও মেনে নিচ্ছেন - তখন তার অথেনটিক লাইফের যাত্রা শুরু হয়।







অসাধারণ 💝
ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।🌷