আমার নতুন বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে এই বইমেলায়
২০২৬ বইমেলা, অমানব
আমার নতুন বই অমানব প্রকাশিত হতে যাচ্ছে আসন্ন বাংলা একাডেমীর একুশে বইমেলায়, মাওলা ব্রাদার্স থেকে। এইবার নির্বাচনের কারণে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত হবে।
আমার এই পর্যন্ত বেশ ভালোই বই প্রকাশিত হইছে।
মার্চ করে চলে যাওয়া একদল কাঠবিড়ালী থেকে শুরু। এরপর রাধারমণ এবং কিছু বিভ্রান্তি উপন্যাসিকাটি প্রকাশিত হয় একক বই আকারে।
এরপর কাফকা ক্লাব, গ্যাডফ্লাই (যা পরে অন্য পাশে সক্রেটিস নামে পরিমার্জিত হয়ে প্রকাশিত হয় আবার), রহমান সাহেব ও তিনটি রহস্য, সাতঘরিয়া, পুরনো কৌতুক, এখানে জাদু শেখানো হয়, জাদুকরের কেবিন থেকে, কাপ্রিতে মৃত্যু, কতো শতো মুখ, নিমাত্রা পীরছাব ও অন্যান্য গল্প, ফকির ফয়জুল্লাহ (যেখানে রাধারমণ এবং আরও দুইটা উপন্যাসিকা ছিল), পলায়নপর ইত্যাদি প্রকাশিত হয়।
হিশাব করলে তেরোটা ফিকশনের বই।
এর মধ্যে অমানব লেখা হইছিল অনেক আগেই, সম্ভবত ২০১৭ সালের দিকে। প্রথম ড্রাফট তখন লেখা হয়, ইচ্ছা ছিল তখন প্রকাশ করার। নানা কারণে হয় নাই, কয়েকজন প্রকাশক এটা দেখছেনও নানা সময়ে, কিন্তু প্রকাশ করেন নাই।
এই উপন্যাসটি ক্রাইম থ্রিলারের আদলে লেখা। এইটা আমার একটা লেখার জনরা। যে আইডিয়া কাফকা ক্লাবে ছিল হালকা ভাবে, অন্য পাশে সক্রেটিসে কোন এক গ্রুপের সমাজ বিরোধী বিদ্রোহ এবং সেইটারে দার্শনিক ভিত্তি দেবার চেষ্টা, তার আরেক রূপ অমানবে, যেইটা খুবই তীব্রভাবে উপস্থাপিত। এই উপস্থাপনের কারণেই বইটার প্রকাশে এতো দেরী হইল। আর এই দেরী হওয়ায় আমি নিজেরে ভাগ্যবানও মনে করি।
কারণ, এইটারে অনেকবার সম্পাদনা করা গেছে, পরিণত করা গেছে। সেই ২০১৭ সালে প্রথম ড্রাফট লেখা হইলেও সর্বশেষ সম্পাদনা হইছে ২০২৫ সালে, যা তারে পূর্ণরূপ দিছে। এই পূর্ণতা না পাইলে মনে হইত অসম্পূর্ণ রইয়া গেলো।
এই উপন্যাসে এক শক্তিশালী মাফিয়া ক্রাইম ফ্যামিলি কল্পণা করা হইছে। বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি ও পাওয়ার সিস্টেমের সাথে মিলাইয়া পড়তে পারেন কেউ। তাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, এবং এক অদ্ভুত রহস্যময়........ভালো হয় ফ্ল্যাপটা এখানে দিয়া দিলে।
অন্ধকারের সিংহাসনে যিনি বসেছিলেন, তিনি এখন মৃত।
বস প্রেসিডেন্ট শরফুদ্দিন খুন হয়েছেন। তাঁর মৃত্যু একটা শূন্যতা তৈরি করেছে, আর সেই শূন্যতা পূরণ করতে ছুটে আসছে লোভ, ভয়, আর পুরনো হিসাবের খাতা।
শাফায়াত জামিল শরফুদ্দিনের ভাতিজা। শীতল চোখ, ধারালো বুদ্ধি। বাইরে থেকে দেখলে সফল ব্যবসায়ী, ভেতরে যা আছে তা জানে হাতে গোনা কয়েকজন। ক্ষমতার মুকুট তাঁর মাথায় আসতে চলেছে। কিন্তু তার আগে তাঁকে খুঁজে বের করতে হবে এক লোককে, যে দিনের আলোয় উধাও হয়ে গেছে, যেন কখনো ছিলোই না। লোকটাকে সবাই বলে পাগল। কিন্তু পাগলের চোখে ওই তীক্ষ্ণ বুদ্ধির আলো কেন? আর সে জানে এমন কী, যা জানলে সব বদলে যাবে? সে কে এবং কী চায়?
আজাদ এক সাধারণ ঘরের ছেলে, অসাধারণ সাহস তার। পাঁচ বছর ধরে ছদ্মবেশে ঢুকেছিল এই অন্ধকার জগতে। কখনো ওয়েটার, কখনো শ্রমিক, কখনো আরো গভীরে। তারপর লিখে ফেলল সব। ‘প্রেসিডেন্ট’ বইটা বোমার মতো ফাটল। এখন সে লিখছে পরের বই। কিন্তু কেউ তাকে দেখছে, সবসময়। তার ঘরের দেয়ালেরও চোখ আছে যেন। নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে কে ঢুকছে তার জীবনে? আর কেন?
হাসনাত তাবরিজি একজন এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট। পুলিশের উর্দিতে এক নিয়ন্ত্রণহীন শক্তি। মাফিয়া বসেরা নাম শুনলে চুপ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমি শহরের ময়লা পরিষ্কার করি।” তাঁর ফেরার পরদিনই প্রেসিডেন্ট খুন,এটা কি কাকতালীয়?
ইস্কান্দার মির্জা অন্ধকারে বসে দাবার গুটি সাজাচ্ছে। তার হাতে এমন কিছু আছে যা শাফায়াত জামিলকে ধ্বংস করতে পারে। সে অপেক্ষায় আছে সঠিক মুহূর্তের।
এই জগতে কেউ নির্দোষ নয়। কেউ নিরাপদও নয়। শুধু কেউ কেউ বেঁচে থাকে.....আপাতত।
অমানব সেই গল্প...
আমি আমার কোন বই নিয়া সাধারণত লেখি না। কিন্তু প্রতিটা বই নিয়াই লেখা যায়, বইয়ের গল্প। লেখি না কারণ, লেখতে গেলে মনে হয় অনেক অনেক কিছু বলতে হবে, সহজে অল্প কথায় বলা গেলে তো বই লেখারই দরকার হইত না।
কেউ ধরা যাক জিজ্ঞাস করলেন অমানবে কী আছে, এর উত্তর কী হবে।
আছে এক পেইজ টার্নার ধরনের গল্প। আছে, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের উপাদান, আছে ক্রাইম, আছে সমাজ, রাজনীতি নিয়া ভাষ্য, উপলব্ধি, আছে ডার্ক হিউমার।
এই গল্পে, আমার মনে হয় কাউরেই বলা যাবে না যে, এ হইল হিরো, ভালো মানুষ।
এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে।
লেখা থেকে শুরু করে এই প্রকাশ পর্যন্ত আসার মধ্যে যত মানুষ সহযোগিতা করেছেন, প্রুফ দেখেছেন, পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন - সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।




ফেসবুক ডিএকটিভেট করে ফেলেছেন?
প্রচ্ছদ তো মেবি ফাইনাল না? ফাইনাল হলে বিকল্প প্রচ্ছদ ভাবতে পারেন। এটা ভালো লাগেনি।