স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও আত্মপরিচয়
আত্মপরিচয় কী এবং এআই টেকনোলজির যুগে তার নির্মাণ
এক্সপেরিয়েন্সিং সেলফ এবং রিমেম্বারিং সেলফ
যেহেতু অতীত এবং স্মৃতি নিয়া কথা আসলো, তাই মনস্তত্ত্ববিদ ড্যানিয়েল কায়নেম্যান এবং তার সহ গবেষকদের কাজের কথা বলা যায় এই বিষয়ে।
তাদের ইনসাইট, মানুষ প্রতিদিন যা এক্সপেরিয়েন্স করে তার সব স্মৃতিতে জমা থাকে না। স্মৃতিতে জমা থাকে খুবই খারাপ এবং খুবই ভালো অর্থা পিক-এন্ড ঘটনা। এবং অনেকদিন পরে মনে করলে ঐ পিক-এন্ড ঘটনার আলোকেই মানুষ ঐ অভিজ্ঞতাটাকে দেখে।
অর্থাৎ, মানুষের যা মনে থাকে, তা সে এক্সপেরিয়েন্স করেছে এমন না, বরং ওই সব ঘটনা নিয়ে একটা গল্প তার মনে থাকে।
মানুষের মেমোরি কীভাবে কাজ করে এ নিয়ে সাধারণত মনে হয় এটা অনেকটা ফাইলের মত। যেমন আপনি প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ফাইভে কী করেছেন, এ বিষয়ে যে মেমোরি আছে আপনার মধ্যে তা যেন মস্তিষ্কে ফাইল আকারে জমা আছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনাকে, আপনি প্রাইমারী স্কুলে থাকতে ক্লাস ফাইভে কী করেছিলেন বলুন।
আপনি বলতে শুরু করলেন। বলা শেষ হলো, ফাইল আবার যথাস্থানে জমা হলো।
কিন্তু এইভাবে মেমোরি কাজ করে না।
নিউরোসাইন্টিস্ট মোরান সেরফ জানাচ্ছেন, নিউরোসাইন্সের আধুনিক গবেষণা বলে, আপনি যখন আমারে কাহিনীটা বলতে গেছেন এই বলার মধ্য দিয়ে গল্পটা পরিবর্তন হবে। যেমন আপনি বলতেছেন প্রথম ক্লাসে আপনি তিনটা বই নিয়া গেছিলেন। আমি বললাম, ঐসময় কোন রঙের জামা পড়ছিলেন? আপনি ভাইবা বললেন, লাল রঙ।
গল্প বলা শেষ হলে আপনার মেমোরিতে যে স্মৃতি জমা হবে ঐ স্কুলের ঘটনা নিয়ে, তাতে আমার এই ইনপুটগুলাও যুক্ত হবে। হয়ত লাল জামা আপনি পরেন নাই। ওইসময় ভেবে বলছেন। কিন্তু এখন থেকে মূল গল্পের সাথে এটা যুক্ত হয়ে গেল। পরেরবার কাউরে বলতে গেলে আপনি লাল জামা সহই বলবেন।
অর্থাৎ আমরা যখন আমাদের স্মৃতি থেকে গল্প বলি, প্রতিবার বলার সময় এটা কিছু কিছু পরিবর্তন হতে পারে। এইভাবে আমাদের স্মৃতিতে যে স্মৃতি জমা থাকে, এইগুলা বহুবার পরিবর্তিত হতে থাকা গল্প।
ফ্রয়েড সম্ভবত এই জিনিশ আন্দাজ করতে পারছিলেন নিউরোসাইন্সের আগেই। তাই টকিং থেরাপি তিনি আনেন। থেরাপিতে বলতে বলতে, থেরাপিস্টের ইনপুটে গল্পটাই চেইঞ্জ হয়ে যায়। ফলে কী ঘটেছিল তা নিয়ে এক ভিন্ন গল্প তৈরি হয় মস্তিষ্কে।
রাশোমন ইফেক্ট
মানুষের স্মৃতির আলাপ আসলে রাশোমনের কথা চলে আসে। রাশোমন জাপানিজ মাস্টার ফিল্ম মেকার আকিরা কুরোসাওয়ার মাস্টারপিস। গল্পকার আকুতাগাওয়া রিউনোসুকের গল্পের উপর ভিত্তি করে ফিল্মটি বানানো হয়। এর কাহিনী আবির্ভূত হয়েছে, একটি খুন বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিন্ন ভিন্ন বয়ানকে কেন্দ্র করে। দর্শক এই ঝামেলায় পড়ে যান আসলে এখানে সত্যি কী ঘটেছিল।
ফিল্মে ফ্ল্যাশব্যাক বা অতীতচারন এমনভাবে দেখানো হয়েছে যাতে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং একজন ভিক্টিম (আত্মা) একই ঘটনা চার ভিন্নভাবে ব্যক্ত করে।
আকিরা কুরোসাওয়া তার জীবনীতে লিখেছিলেন, “মানুষেরা তাদের নিজেদের সম্পর্কে সৎ হয় না পুরাটা। তারা নিজেদের সম্পর্কে বলার সময় কিছুটা না সাজাইয়া পারে না।”
প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষীকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিশেবে ধরা হয়। কিন্তু মানুষের মেমোরি যতটা শক্ত মনে হয়, ততোটা না, এবং মানুষের নিজস্ব স্বার্থ ও অন্যান্য বায়াস থাকতে পারে। ইনোসেন্ট প্রজেক্টের রিপোর্ট মতে, আমেরিকায় ৩৪৯ টা ভুল রায় ডিএনএ পরীক্ষার পর উলটানো হয়েছিল, দেখা গেছে ওইসব ভুল রায়ে ৬৯% ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষী ছিল।
থিসিয়াসের জাহাজ, আত্মপরিচয় ও মেমোরি
এথেন্সের প্রতিষ্ঠাতা রাজা থিসিয়াসের গল্প লিখেছিলেন প্রাচীন ঐতিহাসিক প্লুতার্ক। থিসিয়াস ক্রিটে হিংস্র মিনেটোরকে হত্যা করে জাহাজে করে ফিরে আসেন এথেন্সে। এই ঘটনার প্রতি সম্মান জানাতে এথেন্সবাসী এই জাহাজকে ধরে রাখে এক হাজার বছর, এবং প্রতি বছর তারা এক প্রতীকী যাত্রা করত।
এক হাজার বছর তো আর জাহাজ টিকবে না। তাই যখন জাহাজের কোন অংশ নষ্ট হতো, তারা একইরকমের অংশ তৈরি করে প্রতিস্থাপন করতো। এইভাবে বছর বছর থিসিয়াসের জাহাজ রয়ে যায়। একসময় এমন হয় পুরনো জাহাজ, যেটিতে করে থিসিয়াস এসেছিলেন তার সমস্ত অংশই প্রতিস্থাপিত হয়ে গেছে।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন, এই জাহাজটি কি আসলে থিসিয়াসের জাহাজ?
এক উত্তর, হ্যাঁ এটি থিসিয়াসেরই জাহাজ। কারণ এর ভিন্ন ভিন্ন অংশ ভিন্ন সময়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। একসাথে সব অংশ প্রতিস্থাপিত হয় নি। ফলে এর মূল আইডেন্টিটির কোন লয় হয় নি।
দ্বিতীয় উত্তর, এটি থিসিয়াসের জাহাজ নয়, যদিও দেখতে একইরকম। এর সমস্ত অংশই প্রতিস্থাপিত। এটি ওই জাহাজ নয় যেটাতে থিসিয়াস যাত্রা করেছিলেন।
এই দুই উত্তরে আরেক টুইস্ট, ধরা যাক থিসিয়াসের জাহাজের প্রতিস্থাপনের জন্য ফেলে দেয়া অংশগুলি নিয়ে কেউ আরেকটা জাহাজ বানালো, এবং সে দাবী করলো, ওইটাই থিসিয়াসের আসল জাহাজ, তখন কোনটা হবে থিসিয়াসের জাহাজ?
এই ফিলোসফিক্যাল ধাঁধা মানুষের আত্মপরিচিয়ের সাথে যুক্ত। মানুষের শরীর, কোষ, চিন্তা, আবেগ, অনুভূতি সব পরিবর্তিত হতে থাকে সময়ের সাথে সাথে। দশ বছর পরে কীভাবে বলা যাবে এই লোকটি দশ বছর আগের একই লোক? এবং এই লোকটি দশ বছর আগের লোকটি না হলে, দশ বছর আগের লোকটি কে?
বিট্রেইং স্পিনোজা বইতে ঔপন্যাসিক ও দার্শনিক রেবেকা গোল্ডস্টিন পার্সোনাল আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তার ছোটবেলার এক ছবিকে সামনে এনে। তার জিজ্ঞাসা ছিল, 'এই ছোট মেয়ে যে আমি তা, কেন? যেই পিকনিকের ছবি এটা এর কোন স্মৃতি আমার নাই। এই ছবির পরে কী ঘটছিল জানা নাই। এইটা ঠিক তার যে শরীর আছে, এর পরিবর্তনের এক ধারাবাহিকতার সাথে আমার শরীর যুক্ত করা যাবে। হয়ত আমরা বলতে চাইব, এই শরীরী মিলটাই আমাদের আইডেন্টিটি ধরে রাখে। কিন্তু এখানেও দার্শনিক সমস্যা আছে। তার ওই শরীরের সাথে আমার শরীরের পার্থক্য অনেক, এমনকি যেই অণুগুলা তার শরীরে ছিল, ঐগুলা আমার শরীরে নাই। আর আমাদের শরীর যেখানে ভিন্ন, চিন্তা ধ্যান ধারণায় তো আকাশ পাতাল তফাত। আমার চিন্তায় যে প্রবেশ করতে পারবে না, বিশ্বাস না হলে তারে বলেন স্পিনোজার এথিকস বুঝতে। তার চিন্তাতেও আমি প্রবেশ করতে পারব না। তার চিন্তা প্রক্রিয়া, ভাষা পূর্ব অবস্থার যোগাযোগ আমারে বিভ্রান্ত করবে।'
তাহলে কি একজন মানুষের আত্মপরিচয় নির্মিত হয় তার মেমোরি/স্মৃতি থেকে? সেক্ষেত্রে কারো যদি স্মৃতিভ্রষ্ট রোগ হয়, এবং সে ভুলে যায় তার সকল স্মৃতি, স্বেক্ষেত্রে তার পরিচয় কী হবে? একজন অতীতহীন লোকের অস্তিত্ব ও তার সংকট এক্সপ্লোর করেছিলেন ফিনিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা আকি কাওরিজমাকি তার দ্য ম্যান উইদাউট এ পাস্ট ফিল্মে।
টেকনোলজির এই যুগে, ব্রেইন কম্পুটার সংযুক্তকরণের মাধ্যমে, যেসব গবেষণা হচ্ছে, তাতে হয়ত মানুষের স্মৃতি রাখার জায়গাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিবে মেশিন। এখনই মানুষ গুগল, এবং অন্যান্য কিছু প্রযুক্তির উপর ছেড়ে দিয়েছে স্মৃতির কিছু অংশের ভার। মেশিন যখন মানুষের হয়ে স্মৃতি রাখবে, তখন মানুষের শারীরিক কার্যকলাপ, তার স্মৃতির ভারসাম্যমূলক যোগাযোগ এবং স্মৃতির গল্প নিয়ত পরিবর্তনের ভিত্তিতে তার যে আত্মপরিচয় নির্মান, তা কেমন হবে?
স্মৃতি যেভাবে রক্ষিত হয় মানুষের মস্তিষ্কে, সব কিছু ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিত্তান্তে হয় না, অনেক অনেক কিছু বাদ যায়। যদি সকল কিছু ঠিকঠাক ভাবে স্মৃতিতে রক্ষিত হত, সব জায়গা, ঘটনা, দিন তারিখ, তাহলে স্মৃতির যন্ত্রণাতেই মানুষের জীবন ধারণ করা অসহনীয় হয়ে উঠত, যেটা দেখিয়েছিলে হোর্হে লুই বোর্হেস তার চমৎকার এক গল্প ফিউনেস, দ্য মেমোরিয়াসে। এই গল্পে একটা লোক ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়, এবং এরপর থেকে থেকে সে সকল কিছু মনে রাখতে পারতো।

We, in a glance, perceive three wine glasses on the table; Funes saw all the shoots, clusters, and grapes of the vine. He remembered the shapes of the clouds in the south at dawn on the 30th of April of 1882, and he could compare them in his recollection with the marbled grain in the design of a leather-bound book which he had seen only once, and with the lines in the spray which an oar raised in the Rio Negro on the eve of the battle of the Quebracho.
These recollections were not simple; each visual image was linked to muscular sensations, thermal sensations, etc. He could reconstruct all his dreams, all his fancies. Two or three times he had reconstructed an entire day. He never hesitated, but each reconstruction had required a whole day.
He told me: “I have more memories in myself alone than all men have had since the world was a world.”
And again: “My dreams are like your vigils.”
And again, toward dawn: “My memory, sir, is like a garbage disposal.”
A circumference on a blackboard, a rectangular triangle, a rhomb, are forms which we can fully intuit; the same held true with Ireneo for the tempestuous mane of a stallion, a herd of cattle in a pass, the ever-changing flame or the innumerable ash, the many faces of a dead man during the course of a protracted wake. He could perceive I do not know how many stars in the sky.
— Funes, the Memorius, Jorge Luis Borges
আমরা, এক ঝলকে, একটি টেবিলের উপর তিনটি গ্লাস দেখতে পাই; ফিউনেস, একটি দ্রাক্ষালতাকে পূর্ণ করে তোলা তার সমস্ত পাতা, লতা এবং ফল দেখতে পেত। সে ১৮৮২ সালের ৩০শে এপ্রিল ভোরে দক্ষিণের মেঘপুঞ্জের কেন্দ্রীভূত রূপটি মুখস্থ করে জানত এবং স্মৃতিতে সেগুলোর তুলনা করতে পারত একটি স্প্যানিশ বাঁধাইয়ের বইয়ের বিচিত্র রেখাগুলোর সাথে যা সে কেবল একবার দেখেছিল, এবং কুইব্রাচো বিদ্রোহের আগের রাতে রিও নেগ্রো নদীতে একটি দাঁড়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ফেনার রূপরেখার সাথে। এই স্মৃতিগুলো সরল ছিল না; প্রতিটি দৃশ্যমান ছবি পেশির অনুভূতি, তাপীয় অনুভূতি, ইত্যাদির সাথে যুক্ত ছিল। সে তার সমস্ত স্বপ্ন, তার সমস্ত অর্ধ-স্বপ্নগুলো পুনর্গঠন করতে পারত। দুই বা তিনবার সে একটি পুরো দিনকে পুনর্গঠন করেছিল; সে কখনই দ্বিধায় পড়েনি, কিন্তু প্রতিটি পুনর্গঠনের জন্য তার পুরো একটি দিন লেগেছিল। সে আমাকে বলেছিল: “সম্ভবত পৃথিবী যেদিন থেকে শুরু হয়েছে, সেদিন থেকে মানুষের যত স্মৃতি হয়েছে, তার চেয়েও বেশি স্মৃতি কেবল আমার একার আছে।” এবং আবারও: “আমার স্বপ্নগুলো আপনাদের জেগে থাকার সময়ের মতো।” এবং আবারও, ভোরের দিকে বলেছিল,: “আমার স্মৃতি, স্যার, একটি আবর্জনার স্তূপের মতো।”
ব্ল্যাকবোর্ডে আঁকা একটি বৃত্ত, একটি সমকোণী ত্রিভুজ, একটি রম্বস - এই সবকিছুই হলো এমন আকৃতি যা আমরা সম্পূর্ণরূপে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপলব্ধি করতে পারি; আইরেনিয়োও একই কাজ করতে পারত একটি টাট্টু ঘোড়ার ঝড়ো কেশর দিয়ে, একটি পাহাড়ে থাকা গবাদি পশুর পাল দিয়ে, পরিবর্তনশীল আগুন এবং তার অগণিত ছাই দিয়ে, একটি দীর্ঘ জাগরণের মধ্য দিয়ে একজন মৃত মানুষের অনেকগুলো চেহারা দিয়ে। সে আকাশে ঠিক কতগুলো তারা দেখতে পারত, তা আমি জানি না।
- ফিউনেস দ্য মেমোরিয়াস গল্পের এক অংশের বাংলা অনুবাদ।
যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতি ক্ষমতাসম্পন্ন চিপ মানব মস্তিষ্কে স্থাপিত হবে, তখন মানুষ হয়ে যেতে পারবে ফিউনেসের মত, অতি স্মৃতিধর। হয়ত সকল কিছুই সে মনে রাখতে পারবে, অন্তত সেই ডিভাইসে। বা, এখনই আমরা যখন চ্যাট জিপিটি ইউজ করি, যদিও এপটি আমাদের মস্তিষ্কে যুক্ত করা নেই, সামনের ডিভাইসে, তথাপি, আমরা যে তথ্য চাচ্ছি, সে আমাদের ওই তথ্যই দিচ্ছে। আমাদের পুরা জীবনের সকল তথ্য তারে দিতে পারলে, আমি যদি তারে জিজ্ঞেস করতাম, ক্লাস ফাইভের পঞ্চম ক্লাসে আমি কী করেছিলাম, সে মুহুর্তের মধ্যে আমাকে উত্তর দিয়ে মনে করিয়ে দিতে পারবে। যে সেকন্ড ব্রেইন তৈরি করার কথা বলা হয়, নোট টেইকিং বা অবসিডিয়ানের গ্রাফিক সেকন্ড ব্রেইন নেটওয়ার্কের চিত্র - ইত্যাদি তো ম্যানুয়াল ছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে এই সেকন্ড ব্রেইন হয়ে উঠবে একরকম জীবন্ত।
ওইরকম পরিস্থিতিতে, আমাদের আত্মপরিচয় নির্মান নিশ্চয়ই অন্যরকম হয়ে উঠবে।
আত্মপরিচয় বা আইডেন্টিটি একটা কাল্পনিক গল্প। মানুষ তার গত জীবনের নানা স্মৃতি গল্প আকারে জমা রাখে, তার অভিজ্ঞতায় নানা ধারণা, বিশ্বাস, মতাদর্শ জন্ম নেয়। এইগুলার উপর ভিত্তি করে সে তার ‘আমি’ সম্পর্কে একটা পরিচয় নির্মাণ করে।
এই স্মৃতি একেবারে ঠিকঠাক যেভাবে ঘটনা ঘটেছিল, তার অভিজ্ঞতা হয়েছিল ঐরকম না, কারণ ঐভাবে তার মস্তিষ্ক জমা রাখে না। গল্প আকারে রাখে, যে গল্প আবার তার জীবন ধারণ, নতুন অভিজ্ঞতার সাথে নিয়ত বদলে যেতে থাকে। অর্থাৎ, তার বর্তমান তার অতীত স্মৃতির গল্পরে বদলাইতে থাকে।
এভাবে আইডেন্টিটির বদল হইতে থাকে।
ভবিষ্যৎ টেকনোলোজির কারণে, যখন স্মৃতি আরো ভালোভাবে জমা রাখতে পারবে মানুষ, আরো ভালোভাবে রিকল করতে পারবে, বিশ্লেষণ করতে পারবে, তখন ওইটারে সে অন্যভাবে বিচার করবে, যা সরাসরি প্রভাবিত করবে তার আত্মপরিচয় নির্মানরে।






