can the subaltern Speak?
no
ফেসবুক আমাদের দর্শন ও ক্রিটিক্যাল থিওরি শিক্ষায় জায়গা কারণ এইখানে লাইভ ঘটনা ঘটে। তাই ক্লাস, আজ ক্যান সাব অলটার্ন ইস্পিকের আরেক উদাহরণ আমরা দেখব।
এম্পি গাজী নজরুল সাহেব এক হোটেলে আটক হইছেন। তার ব্যক্তিগত প্রাইভেসি লঙ্ঘন করে, ও আইন ভাইঙ্গা কিছু লোক তারে ধরছেন। তার ভিডিও করছেন।
সাংসদের এই কাজের বিরুদ্ধে সমালোচনা হইতেছে। যারা প্রাইভেসী ভাঙ্গছেন, এনাদের বিরুদ্ধেও অল্প আলাপ আছে।
কাবিন হইছে, বিয়া হইছে, এইগুলাও শোনা গেল।
কিন্তু, ওই মেয়েটার কোন ভাষ্য আমরা পাইলাম না। সে কী চায়। সে কি ভিক্টিম? অবস্থাদৃষ্টে তাই মনে হয়। কমবয়েসী মেয়ে চাকরির জন্য গেছিল এম্পির কাছে। যৌন অপরাধের চাইতে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা ও অপব্যবহার দেখেন। নাকি সে প্রেমে পড়ে গেছিল এম্পির সাথে? এমন তো হয়েই থাকে, দেশে বিখ্যাত উদাহরণও আছে।
এবং প্রেম হইলেও, ওইটা কেমন প্রেম? যেখানে এম্পি তার পাওয়ার এক্সারসাইজ করতেছেন, যেন, কোন বিখ্যাত পরিচালক অভিনয়ের সুযোগ করে দিছেন, এর বিনিময়ে প্রেম করতেছেন। এখানে উহ্য চাপ থাকেই।
এই কনট্যাক্সটে ক্লাস, আমরা এই মেয়েটারে সাব অল্টার্ন ধরতে পারি। সে কথা বলতে পারে না, কারণ তার কথা বলার সুযোগ নাই শুধু এইটাই না, বরং সে কথা বললেও ওইটা শোনার কাঠামো আমাদের নাই।
সে যদি বলে, আমি গাজীর প্রেমে পইড়া গেছি, আমাদের বিয়া হইছে তখন ধরে নেয়া হবে, জামাত মেয়েটারে চাপ দিছে, এবং এইটা তার কথা হয় না কারণ অলরেডি জামাত এই বিয়ার তত্ত্ব আনছে। যদি সে বলে আমি ভিক্টিম, তখনো তার বয়ান হিশেবে আমরা শুনতে পারব না, কারণ এই বয়ান অলরেডি প্রতিষ্ঠিত, অন্যরা বলতেছেন, এবং জামাত বলবে ষড়যন্ত্র, যেমন তারা বলতেছেও।
তার হইয়া যারা কথা বলতেছেন, এদের কথাই তার কথা এমন না। আবার চাপে পইড়া সে কোন বক্তব্য দিলে, ওইটাও তার কথা হয় না। তাইলে তার বক্তব্য কী! এমন সিচুয়েশনে সে দাঁড়াইয়া, সে যাই বলুক, আমাদের কানে তা পৌঁছাবে না তার কথা হিশেবে, পৌঁছাবে অন্যদের কথা হিশেবে। সতীদাহের উদাহরণের লগে মিলে, ঔপনিবেশিকরা বলতো, ব্রাউন অসভ্য ন্যাটিভদের হাত থেকে ব্রাউন নারীদের আমরা বাঁচাইতেছি। আর ইন্ডিয়ান পুরুষতান্ত্রিক ধর্মীয় বয়ান ছিল, সতীরা নিজ ইচ্ছায় যাইতেছে সহমরণে। সতী তথা নারী এখানে ভয়েজলেস অবজেক্ট, যেমন আমাদের ঘটনায় এই নারীটি, কারণ দুই পক্ষই তার হইয়া সত্য বলতেছে দাবী করে।
এইটাই সাব অল্টার্নের কথা বলতে না পারার বাস্তবতা। এবং ক্লাস, খেয়াল করেন, কোন রোমান্টিসাইজেশন করে বুঝলে হবে না। ওই মেয়েটা নিজ থেকে বক্তব্য দিলেই ওইখানে পিওর সত্য থাকতো এমন নয়, বরং অবস্থা এমন দাঁড়াইছে যে, সে যাই বলুক, ওইটা এক ইডিওলজির লেন্সে ধরা পড়বে, এবং একটা কাউন্টার আর্গুমেন্ট তৈরি করবে।
ফ্রয়েডের আ চাইল্ড ইজ বিয়িং বিটেন প্রবন্ধে একটা শিশুরে মারা হইতেছে, এই ফ্যান্টাসি করে রোগী। তিনটা পক্ষ থাকে। এক, বাবা বা অথরিটি ফিগার, যিনি শাস্তি দিতেছেন। দুই, রোগী নিজে, যে ফ্যান্টাসি করতেছে। তিন, অন্য একটা শিশু, যে আসলে মাইর খায়। শিশুরে বাবা মারতেছেন, এই ফ্যান্টাসিতে ওই মাইর খাইতে থাকা শিশু ম্যাটার করে না, বরং সে যে মাইর খাইতেছে এইটা দেইখা বা ভাইবা রোগীর মনে যেই কষ্ট বা উত্তেজনা তৈরি হয়, সেইটাই ম্যাটার করে। এই কষ্টের ফ্যান্টাসিই বাবা আর রোগীর মধ্যে একটা ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প তৈরি করে।
স্পিভাক এই কাঠামোটা হোয়াইট মেন সেভিং ব্রাউন উইমেন ফ্রম ব্রাউন মেন এ বসাইছিলেন, তবে হুবহু না, বরং একটা কাঠামোগত মিল হিশাবে। ফ্রয়েডের ফ্যান্টাসিতে যেমন তৃতীয় শিশুর কষ্টটা নিজের জন্য ম্যাটার করে না, খালি বাবা আর রোগীর সম্পর্ক তৈরির মাধ্যম হয়ে থাকে, তেমনি এইখানেও, 'হোয়াইট পুরুষেরা ইন্ডিয়ান পুরুষদের হাত থেকে বাঁচাইতেছে’ আর তার পাল্টা বাক্য 'নারীরা নিজ ইচ্ছায় সতীদাহে মরতে চাইছিল' -- দুইটাই আসলে দুই পক্ষের কথা, যাদের ভয়েজ আছে।
একদিকে কলোনিয়াল অথরিটি, আরেকদিকে ব্রাউন গোঁড়া পুরুষতন্ত্র, যারা নিজেদের পাল্টা যুক্তি হাজির করছেন। এই দুই ভয়েজই একে অপররে বৈধতা দেয়, একে অপরের বিরোধী মনে হইলেও আসলে একটা সহায়ক সম্পর্ক তৈরি করে।
ক্লাস, আর এই দুই সরব পক্ষের মাঝখানে, যেই কষ্টটা আসলে ম্যাটার করার কথা ছিল, সতীর নিজের কষ্ট, তার নিজের ইচ্ছা, তার নিজের ভাষ্য, সেইটা কোথাও থাকে না। সে-ই আসলে ওই মাইর খাওয়া শিশুর জায়গায়, যার কষ্টটা নিজের জন্য কখনো গোনায় ধরা হয় না, খালি দুই পক্ষের তর্কের উপকরণ হইয়া অবস্থান করে।
আমাদের ঘটনায় এইটা বসাইয়া দেখা যায়। মিডিয়া-অ্যাক্টিভিস্ট বলতেছেন এক কথা, জামাত-এমপি বলতেছেন আরেক কথা। দুইটাই সরব, দুইটারই প্ল্যাটফর্ম আছে, দুইটাই একে অপররে খণ্ডন করার নামে নিজেদের বয়ান শক্ত করতেছে। এই দুই সরব পক্ষের মাঝখানে যেইটা হারায়ে যায়, সেইটা মেয়েটার নিজের কথা। তার কষ্ট, তার ইচ্ছা, যদি থাকে তার সম্মতিও, এইগুলা কোনো পক্ষের বয়ানেই নিজের জায়গায় দাঁড়ায় না, খালি একে অপররে আক্রমণ করার হাতিয়ার হিশেবে ব্যবহার হয়। মেয়েটা এইখানে জাস্ট প্রপ। এমন একজন, যার মাধ্যমে দুই সরব পক্ষের মধ্যে একটা রাজনৈতিক-নৈতিক লড়াই ঘটে, এক সম্পর্ক তৈরি হয়।
এবং বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে, সে একজন ব্যক্তি, এই একটা ঘটনাই পয়েন্ট না। পয়েন্ট হইল, আপনে যদি কখনো কোন এক সময়ে, কোন অবস্থায়, এইরকম পরিস্থিতিতে পইড়া যান, যখন আপনার ভয়েজ থাকবে না, তখন কী হবে? তখন আপনে কীরূপে প্রকাশিবেন তব কথা?
দৃশ্য, অদৃশ্য সব ক্ষমতারে দেখেন, ও প্রশ্ন করেন।

